নেহেরু মহলানবিশ মডেল সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত টীকা

চতুর্থ সেমিস্টার জন্য থেকে নেহেরু মহলানবিশ মডেল সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো এই প্রশ্নটির উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টার জন্য।

নেহেরু মহলানবিশ মডেল সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত টীকা

প্রশ্ন:- নেহেরু-মহলানবিশ মডেল সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো।

ভূমিকা

নেহেরু-মহলানবিশ মডেল (১৯৫৬-১৯৬১) হলো ভারতের দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মূল ভিত্তি, যা দ্রুত শিল্পায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে ভারী শিল্প ও রাষ্ট্রীয় খাতের ওপর জোর দেয়। এটি অধ্যাপক প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবিশ দ্বারা তৈরি, যার লক্ষ্য ছিল মূলধনী পণ্য উৎপাদন বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধি অর্জন করা।

মডেলের বৈশিষ্ট্য ও উদ্দেশ্যসমূহ

এর মূল উদ্দেশ্য গুলি হল –

(১) ভারী শিল্পের ওপর জোর

ইস্পাত, কয়লা, ভারী যন্ত্রপাতি শিল্পের মতো ভারী ও মৌলিক শিল্পের দ্রুত বিকাশে বিনিয়োগের সিংহভাগ বরাদ্দ করা হয়।

(২) রাষ্ট্রীয় খাত

অর্থনীতির মূল চাবিকাঠি হিসেবে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ বা পাবলিক সেক্টরকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।

(৩) স্বয়ংসম্পূর্ণতা

আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য ছিল।

(৪) কর্মসংস্থান

ভারী শিল্পের পাশাপাশি ভোগ্যপণ্য উৎপাদনের জন্য ছোট ও কুটির শিল্পের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল।

(৫) দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধি

এই মডেলের মূল লক্ষ্য ছিল স্বল্পমেয়াদী ভোগ কমিয়ে, দীর্ঘমেয়াদে মূলধন গঠনের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধির হার বাড়ানো।

মডেলের সীমাবদ্ধতা

কৃষি খাতকে উপেক্ষা করা হয়েছিল, যা পরবর্তীকালে খাদ্য সংকটের কারণ হয়। অতি-নির্ভরতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে শিল্প ক্ষেত্রে ধীরগতি দেখা দিয়েছিল।

উপসংহার

এই মডেলটি ভারতীয় অর্থনীতির শিল্প ভিত্তি তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও এর সীমাবদ্ধতার কারণে ১৯৯০-এর দশকে অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজন হয়।

Leave a Comment