চতুর্থ সেমিস্টার জন্য থেকে সিপাহী বিদ্রোহের অর্থনৈতিক কারণ লেখো এই প্রশ্নটির উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টার জন্য।
সিপাহী বিদ্রোহের দুটি অর্থনৈতিক কারণ
প্রশ্ন:- সিপাহী বিদ্রোহের দুটি অর্থনৈতিক কারণ লেখো।
সূচনা
ভারতে ইংরেজদের অর্থনৈতিক শোষণ তথা কোম্পানির অর্থনীতির বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ-ই ছিল ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের অন্যতম প্রধান কারণ।
সিপাহী বিদ্রোহের অর্থনৈতিক কারণ
এই বিদ্রোহের বিভিন্ন অর্থনৈতিক কারণগুলি হল –
(১) সম্পদের নির্গমন
১৭৫৭ থেকে ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ১০০ বছরে ব্রিটিশদের শোষণমূলক অর্থনীতি ভারতীয় জনসাধারণের মনে ক্ষোভ ও অসন্তোষের জন্ম দিয়েছিল। নানা উপঢৌকন ও উৎকোচের মাধ্যমে জলের মতো অর্থের নির্গমনকেই দাদাভাই নৌরজি এবং রমেশচন্দ্র দত্ত Drain of Wealth বলে উল্লেখ করেছেন।
(২) অসম বাণিজ্যনীতি
কোম্পানির বাণিজ্য নীতি দেশীয় বণিক ও কারিগরদের ধ্বংসের মুখে নিয়ে যায়। দেশীয় শিল্পপণ্যের রফতানি কমিয়ে এবং ব্রিটেনের কারখানায় প্রস্তুত পণ্যের আমদানি বাড়িয়ে সরকার বিদেশি পণ্যে ভারতে বাজার ভরিয়ে দেয়। উপরন্তু ভারতের রফতানি করা পণ্যের উপর ব্রিটিশ সরকার চড়া হারে আমদানি শুল্ক চাপায়। ক্রমেই ভারতের শিল্পপণ্য অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে নিঃশেষহতে থাকে। ফলে দারিদ্র্যপীড়িত মানুষেরা পরবর্তীকালে ইংরেজবিরোধী আন্দোলনে যোগদান করেন।
(৩) কোম্পানির ভূমিরাজস্ব নীতি
ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বেশি পরিমাণে রাজস্ব আদায়ের জন্য বিভিন্ন প্রকার ভূমিরাজস্ব নীতি চালু করে। চিরস্থায়ী, রায়তওয়ারি বা মহলওয় প্রতিটি ব্যবস্থাতেই বিপুল পরিমাণে খাজনার বৃদ্ধি, কোম্পানি-সৃষ্ট জমিদার শ্রেণির শাসন-শোষনে কৃষকদের জীবন দুর্বিষহ করে তোলে।
(৪) মহাজন ও নীলকরদের শোষণ
কোম্পানির রাজস্বব্যবস্থার ফলে মহাজন শ্রেণির উদ্ভব হয়। চড়া হারে রাজস্ব দিতে ব্যর্থ হয়ে কৃষকেরা জমি বন্ধক দিয়ে মহাজনের কাছে চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হতেন। ঋণের জালে তাদের আর্থিক অবস্থা শোচনীয় হয়ে ওঠে। এ ছাড়া কৃষকেরা নীলকর সাহেবদের দ্বারাও নির্যাতিত হতেন।
উপসংহার
উপরোক্ত অর্থনৈতিক কারণগুলিই ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল।