ভারতীয় আয়ুর্বেদের ইতিহাসে সুশ্রুতসংহিতার গুরুত্ব

আয়ুর্বেদ থেকে ভারতীয় আয়ুর্বেদের ইতিহাসে সুশ্রুতসংহিতার গুরুত্ব আলোচনা করো এই প্রশ্নটির উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টার জন্য।

ভারতীয় আয়ুর্বেদের ইতিহাসে সুশ্রুতসংহিতার গুরুত্ব আলোচনা

প্রশ্ন:- ভারতীয় আয়ুর্বেদের ইতিহাসে সুশ্রুতসংহিতার গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তরঃ আয়ুর্বেদশাস্ত্রের ইতিহাসে সুশ্রুত একটি উল্লেখযোগ্য নাম। ধন্বন্তরির দ্বাদশ শিষ্যের অন্যতম সুশ্রুতের নাম অনুসারে এই গ্রন্থ ‘সুশ্রুতসংহিতা’ নামে পরিচিত। এই নাম থেকে বোঝা যায় যে, কোনো এক সময়ে সুশ্রুত আয়ুর্বেদের এই গ্রন্থের বিষয়গুলি সংকলন করেছিলেন। তবে, এটা স্পষ্ট যে এই সুশ্রুতসংহিতা নাগার্জুনের দ্বারা পরিমার্জিত হয়েছিল।

সুশ্রুত সংহিতার মূল অধ্যায়

সুশ্রুত সংহিতার মূল অধ্যায় গুলি হলো-

(i) সূত্রস্থান

এখানে আয়ুর্বেদ ও চিকিৎসা শাস্ত্রের মূল সূত্রগুলি আলোচিত হয়েছে।

(ii) নিদানস্থান

এই স্থানে রোগ নির্ণয় ও রোগের কারণ বিশেষভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

(iii) শারীরস্থান

এই স্থানে মানব দেহ ও তার শারীরিক গঠন নিম্নে আলোচনা করা হয়েছে।

(iv) চিকিৎসা স্থান

এই স্থানে রোগ নিরাময় ঔষধ ও চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

(v) কল্প স্থান

এখানে ঔষধ পদ্ধতি ও তার প্রয়োগ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

(vi) উত্তর তন্ত্র

পরবর্তী সংযোজন অতিরিক্ত নির্দেশাবলী দেওয়া হয়েছে।

সুশ্রুত চিকিৎসা বা সার্জারি অংশ

সুশ্রুত চিকিৎসা বা সার্জারি অংশ 7 টি –

  • (i) ছেদন (কেটে ফেলা),
  • (ii) ভেদন (দেহভঙ্গ),
  • (iii) লেখন (অস্ত্রপ্রচারের সময় দাগ সৃষ্টি),
  • (iv) ত্রষ্যণ (খুঁজে বার করা),
  • (v) আহরণ (অবাঞ্চিত অংশ),
  • (vi) বিশ্রবণ (দেহ থেকে তরল পদার্থ নিঃসরণ) ও
  • (vii) সীবন (দেহে ক্ষত সারানো)।

মূল্যায়ণ

চরকসংহিতার ন্যায় সুশ্রুতসংহিতাও তৎকালীন বিশেষজ্ঞদের দ্বারা বহুল সমাদৃত হয়েছিল। ভাষার সহজবোধ্যতা ও উপস্থাপনা গ্রন্থটিকে জনপ্রিয় করে তুলেছিল। সুশ্রুতসংহিতার টীকাকারগণের মধ্যে  গয়দাস, চক্রপাণি উল্লেখযোগ্য।

Leave a Comment