হিতং মনোহারি চ দুলর্ভং বচঃ

‘বনেচরভাষনম্’ পদ্যাংশ থেকে হিতং মনোহারি চ দুলর্ভং বচঃ বাখ্যা করো এই প্রশ্নটির উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টার জন্য।

হিতং মনোহারি চ দুলর্ভং বচঃ

প্রশ্নঃ- “হিতং মনোহারি চ দুলর্ভং বচঃ” বাখ্যা করো।

উৎস

আলোচ্য শ্লোকটি মহাকবি ভারবি রচিত ‘কিরাতার্জুনীয়ম্’ মহাকাব্যের প্রথম সর্গের অন্তর্গত ‘বনেচরভাষণম্’ থেকে নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গ

রাজা দুর্যোধন কিভাবে রাজ্য শাসন করছেন তা জানার জন্য রাজা যুধিষ্ঠির এক বনেচরকে গুপ্তচররূপে নিয়োগ করেন। সে সমস্ত বৃত্তান্ত জেনে যুধিষ্ঠিরকে প্রণাম করে উক্ত বাক্যটি বলে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

অর্থ

হিতকর অথচ মনোহর বাক্য জগতে দুর্লভ।

বাখ্যা

মানুষের স্বভাব হলো সব সময় সুন্দর ও মধুর বাক্য শুনতে চায়। এরকম কথা শুনে মানুষ আনন্দ পায়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় এই দুই গুন একসঙ্গে দুর্লভ।

যেমন জীবনদায়ী ওষধ কটু স্বাদযুক্ত হয়, তেমনি হিতকর বাক্য মনোহর হয় না। তাজাড়া হিতৈষী ব্যক্তিরা কখনোও সত্য গোপন করে মিথ্যা প্রিয় বাক্য বলেন না। মিথ্যা প্রিয় বাক্যর দ্বারা মানুষকে সাময়িক সন্তুষ্ট করা যায়, কিন্তু তা মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।

উপসংহার

এই জন্যই বলা হয় একই সঙ্গে হিতকর ও মনোহর বাক্য পৃথিবীতে বিরল। এই বনেচর রাজা যুধিষ্ঠিরের হিতকামী। সুতরাং তার কাক্য প্রিয় হোক বা অপ্রিয় হোক, সে সত্য বৃত্তান্ত নিবেদন করবে। তাই মুধিষ্ঠিরের উচিৎ এই হিতকর অপ্রিয় ভাষণে বনেচরকে ক্ষমা করা।

Leave a Comment