যোগাসন বা যোগব্যায়াম

যোগাসন বা যোগব্যায়াম সম্পর্কে কিছু তথ্য, আসন কাকে বলে? আসনের প্রকারভেদ, রোগ আরোগ্যকারী বা রোগ নিরাময় আসন, উচ্চতা বৃদ্ধির উপযোগী আসনের তালিকা, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির উপযোগী আসনের তালিকা তুলে ধরা হল।

যোগাসন বা যোগব্যায়াম বই pdf download, যোগাসন বা যোগব্যায়ামের নাম, যোগাসন বা যোগব্যায়ামের নাম ও ছবি, যোগাসন বা যোগব্যায়ামের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

আসন কাকে বলে? যোগাসন কাকে বলে? যোগাসন নাম ও ছবি pdf, আসনের প্রকারভেদ, যোগাসন কি? যোগাসনের তালিকা, আসন কত প্রকার ও কি কি? বিভিন্ন আসনের ছবি ও নাম, যোগব্যায়াম কাকে বলে? yogasan kake bole, কয়েকটি যোগাসনের নাম, যোগাসন পদ্ধতি, যোগাসনের উপকারিতা, যোগমুদ্রাসন।

Table of Contents

যোগাসন বা যোগব্যায়াম সম্পর্কে কিছু তথ্য

ভারতীয় সভ্যতায় বহু প্রাচীন এই ‘যোগ’ শব্দটি। বিভিন্ন প্রাচীন শাস্ত্রে নানা প্রসঙ্গে ‘যোগ’ শব্দের উল্লেখ আছে। আজ থেকে প্রায় ২২০০ বছর আগে মহর্ষি পতঞ্জলি কর্তৃক রচিত ‘অষ্টাঙ্গ যোগ’ -এর আটটি ধাপের তৃতীয়টি হল আসন।

যোগাসন বা যোগব্যায়াম কাকে বলে?

মহর্ষি পতঞ্জলি আসনের সংজ্ঞা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন -“স্থিরসুখমাসনম্” অর্থাৎ দৈহিক স্থিরতার সাথে মানসিক সুখের সমন্বয়ই হল আসন।

আবার অন্যভাবে বলা যায় – একটি বিশেষ ভঙ্গিমায় মনঃসংযোগ সহযোগে কিছু সময়ের জন্য স্থিরভাবে সুখকর অবস্থানই হল আসন বা যোগাসন। যোগাসনের মাধ্যমে শরীর-চর্চা পদ্ধতিরই চলতি নাম যোগব্যায়াম।

যোগ, যোগব্যায়াম, আসন প্রভৃতি শব্দগুলি প্রায় একই অর্থে ব্যবহৃত হলেও মনে রাখতে হবে ‘যোগ’ একটি বিরাট বিষয়, আসন তার একটি শাখা মাত্র। আসনের প্রচলন বহু প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে। ‘ঘেরন্ড সংহিতা’ মতে মোট আসনের সংখ্যা ৮৪ লক্ষ।

দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ বেশ কিছুদিন নিয়মিত যোগাসন অভ্যাসের মাধ্যমে প্রত্যাশিত উপকারিতা পাওয়ার পরেও দীর্ঘদিন যোগাভ্যাস চালিয়ে যেতে পারলে, সুস্থ-সবল, কর্মঠ জীবন যাপন অনেক সহজ হয়ে যাবে। যোগাসনকে করে নিতে হবে দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ (Part of Daily Life)। তখন আর রোগ-ব্যাধি সহজে দেহকে আক্রমণ করতে পারবে না। সুস্বাস্থ্য ও সুসময় হাত ধরাধরি করে চলে।

যোগাসন বা যোগব্যায়ামের প্রকারভেদ

আসনকে প্রধানতঃ তিন ভাগে ভাগ করা যায় –

১। ধ্যানাসন কাকে বলে?

ধ্যানাসন হল ধ্যান ও পূজা পাঠের পক্ষে উপযোগী আসন। যথা-পদ্মাসন, বজ্রাসন, গোমুখাসন ইত্যাদি।

২। স্বাস্থ্যাসন কাকে বলে?

স্বাস্থ্যাসন হল সাধারণত স্বাস্থ্যের উন্নতি বিধানে সহায়ক আসনসমূহ। যথা- উষ্ট্রাসন, চক্রাসন, ভুজঙ্গাসন, ত্রিকোণাসন ইত্যাদি।

৩। বিশ্রামাসন কাকে বলে?

যে আসন অভ্যাসের দ্বারা দৈহিক ও মানসিক বিশ্রাম লাভ করা সম্ভব হয়, তাকেই বলা হয় বিশ্রামাসন। যেমন- শবাসন।

সকল যোগাসন বা যোগব্যায়ামের তালিকা

পদ্মাসনশলভাসন
বদ্ধ পদ্মাসন একপদ শলভাসন
উত্থিত পদ্মাসননাভী আসন
ঝুলাসনধনুরাসন
যোগমুদ্রাসনঅর্ধচন্দ্রাসন
গর্ভাসনপদহস্তাসন
কুক্কুটাসনহলাসন
ঊর্ধ কুক্কুটাসনসর্বাঙ্গাসন
বজ্ৰাসনমৎস্যাসন
সুপ্ত বজ্রাসন শশকাসন
সিংহাসন উষ্ট্রাসন
পবন মুক্তাসন অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন
অর্ধকুর্মাসনশবাসন
ত্রিকোণাসন
উত্থিত শিরাসনকাকাসন
নৌকাসন ময়ূরাসন
গোমুখাসনব্যাঘ্রাসন
ভদ্রাসনএকপদ শিরাসন
পূর্ণ ভদ্রাসনওঁকারাসন
আকর্ণ ধনুরাসনবৃশ্চিকাসন
জানুশিরাসনবৃক্ষাসন
পার্শ্ব জানুশিরাসনচতুষ্কোণাসন
পশ্চিমোত্তানাসনশীর্ষাসন
চক্রাসনগরুড়াসন
পূর্ণ চক্রাসনবদ্ধ অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন
ভুজঙ্গাসনদণ্ডায়মান একপদ ধনুরাসন
যোগাসন বা যোগব্যায়ামের তালিকা

রোগ আরোগ্যকারী যোগাসন বা যোগব্যায়াম

প্রচলিত সাধারণ ওষুধের মত যোগব্যায়াম কোনও রোগকে সরাসরি সারাতে সচেষ্ট হয় না। দেহের কোনও এক বা একাধিক যন্ত্রের দোষ- ত্রুটি বা স্বাভাবিক কার্য সম্পাদনে অক্ষমতা থেকেই বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি হয়ে থাকে। দেহের এই দোষ-ত্রুটি এবং অক্ষমতাকে দূর করার মাধ্যমে রোগ সৃষ্টির মূল কারণকে দূরে সরিয়ে দিতে সচেষ্ট হয় যোগব্যায়াম। কাজেই, যোগব্যায়ামের সাহায্যে আরোগ্য লাভ একদিকে যেমন সময়সাপেক্ষ, অন্যদিকে আবার তার স্থায়িত্ব অনেক বেশী। যোগব্যায়াম অভ্যাসের মাধ্যমে একবার আরোগ্য লাভ করলে সহসা রোগের পুনরাবৃত্তি ঘটে না।

যোগব্যায়াম অভ্যাসের দ্বারা রোগ আরোগ্যে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে দীর্ঘদিন অভ্যাস করে যেতে হবে। এক্ষেত্রে, অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের অধীনে অভ্যাস করাই বাঞ্ছনীয়।

বিভিন্ন রোগ আরোগ্যের সহায়ক কয়েকটি আসনের নাম দেওয়া হল। প্রতিটি ক্ষেত্রেই অল্প মাত্রায় শুরু করে ক্রমশঃ সময় বাড়াতে হবে। তবে, লক্ষ্য রাখতে হবে যেন অভ্যাস বেশী হয়ে না যায়, তাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

কোষ্ঠবদ্ধতা মুক্ত করার আসন

যোগমুদ্রা, পবনমুক্তাসন, পদহস্তাসন, অর্ধচন্দ্রাসন, সর্বাঙ্গাসন, মৎস্যাসন, ভুজঙ্গাসন। ফল-মূল, সবুজ শাক-সব্জী ও জল প্রচুর পরিমাণে খাওয়া দরকার।

অম্ল মুক্ত করার আসন

অজীর্ণ বজ্রাসন, অর্ধকুর্মাসন, পবনমুক্তাসন, ভুজঙ্গাসন, শলভাসন, যোগমুদ্রা, প্রতিদিন একসময়ে ভাল করে চিবিয়ে খাদ্য গ্রহণ করা উচিৎ। আমিষ খাদ্য ও তেল-মশলা খাওয়া কমাতে হবে।

পেটে বায়ু মুক্ত করার আসন

পবনমুক্তাসন, যোগমুদ্রা, অর্ধকুর্মাসন, শলভাসন, হলাসন। তেল ও ভাজা জাতীয় খাদ্য এবং শাক-পাতা খাওয়ার পরিমাণ কমানো দরকার।

আমাশয় মুক্ত করার আসন

অর্ধকুর্মাসন, পবনমুক্তাসন, যোগমুদ্রা, বজ্রাসন। সকাল- বিকেল দু’বেলা থানকুনি পাতার রস খেলে আমাশয় রোগে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়। যত্রতত্র জল না খাওয়া ভাল।

অক্ষুধা মুক্ত করার আসন

যোগমুদ্রা, পবনমুক্তাসন, সর্বাঙ্গাসন, মৎস্যাসন, শীর্ষাসন, ত্রিকোণাসন, ময়ূরাসন। খাওয়ার পরে বজ্রাসন। একবারে বেশী। খেতে না পারলে, অল্প পরিমাণে বারে বারে খেতে হবে।

লিভারের ত্রুটি মুক্ত করার আসন

জানুশিরাসন, অর্ধকুর্মাসন, পবনমুক্তাসন, পদহস্তাসন, অর্ধচন্দ্রাসন, ত্রিকোণাসন। অতিরিক্ত তেল-মশলা জাতীয় খাদ্য পরিহার করতে হবে।

উচ্চ রক্তচাপ মুক্ত করার আসন

শবাসন, বজ্রাসন, ডীপব্রীদিং। কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না থাকে। নুন ও আমিষ জাতীয় খাদ্য কমিয়ে শাক-সব্জীর পরিমাণ বাড়াতে হবে। প্রাতঃভ্রমণ বিশেষ উপকারী।

নিম্ন রক্তচাপ মুক্ত করার আসন

উত্থিত পদাসন, পবনমুক্তাসন, ডীপ ব্রীদিং। অধিক বিশ্রাম প্রয়োজন। ছানা, আমিষ জাতীয় খাদ্য ও নুন খাওয়ার পরিমাণ বাড়াতে হবে।

হৃদরোগ মুক্ত করার আসন

শবাসন ও ডীপ ব্রীদিং। অধিক পরিশ্রম ও উদ্বেগ- দুশ্চিন্তা করা উচিত নয়। কোষ্ঠবদ্ধতা থাকলে দূর করতে হবে। অতিরিক্ত ওজন কমানো দরকার।

হাঁপানি মুক্ত করার আসন

উষ্ট্রাসন, সর্বাঙ্গাসন, মৎস্যাসন, পবনমুক্তাসন, ভুজঙ্গাসন, শলভাসন, অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন ও ডীপ ব্রীদিং। অতিভোজন পরিহার করতে হবে। ভিটামিন সি জাতীয় খাদ্য গ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন।

কৃশতা মুক্ত করার আসন

বজ্রাসন, পবনমুক্তাসন, সর্বাঙ্গাসন, মৎস্যাসন, অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন, শীর্ষাসন, ত্রিকোণাসন। খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ বাড়াতে হবে। জল বেশী খাওয়া দরকার।

সায়াটিকার ব্যথা মুক্ত করার আসন

বজ্রাসন, শলভাসন, অর্ধচন্দ্রাসন, ত্রিকোণাসন।

অতিরিক্ত মেদ মুক্ত করার আসন

পশ্চিমোত্তানাসন, চক্রাসন, হলাসন, উত্থিত পদাসন, ধনুরাসন, ত্রিকোণাসন, সর্বাঙ্গাসন মৎস্যাসন। তেল, ঘি, ভাজা, মিষ্টি প্রভৃতি খাওয়া কমিয়ে অধিক পরিশ্রম করতে হবে। বেশী ঘুমানো, বিশেষ করে দিনে ঘুমানো ক্ষতিকারক।

টনসিলের দোষ মুক্ত করার আসন

হলাসন, সর্বাঙ্গাসন, মৎস্যাসন, শশকাসন, উষ্ট্রাসন, সিংহাসন।

কোমরের ব্যথা ও লাম্বার স্পণ্ডিলাইটিস্ মুক্ত করার আসন

শলভাসন, সুপ্তবজ্রাসন, ধনুরাসন, নাভী আসন, ত্রিকোণাসন। সামনে ঝুঁকে কোনও আসন বা ব্যায়াম করবেন না।

হার্নিয়া মুক্ত করার আসন

উত্থিত পদাসন, উত্থিত শিরাসন, নৌকাসন, সুপ্তবজ্রাসন, গোমুখাসন, চক্রাসন। তলপেটে চাপ দিয়ে কোনও আসন করবেন না। ভারী জিনিষ তোলা ক্ষতিকারক।

ডায়াবিটিস মুক্ত করার আসন

জানুশিরাসন, পদহস্তাসন, যোগমুদ্রা, ত্রিকোণাসন। প্রাতঃভ্রমণ ও সান্ধ্যভ্রমণ বিশেষ উপকারী।

স্বরভঙ্গ মুক্ত করার আসন

শশকাসন, উষ্ট্রাসন, সর্বাঙ্গাসন, মৎস্যাসন, সিংহাসন, ডীপব্রীদিং। ইষদুষ্ণ নুন-জলে গার্গল (Gargle) করা ভাল।

সর্দি-কাশি ও ব্রঙ্কাইটিস মুক্ত করার আসন

সর্বাঙ্গাসন, মৎস্যাসন, শশকাসন, উষ্ট্রাসন, সিংহাসন, অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন, ডীপব্রীদিং।

মাথাধরা বা মাথাব্যথা মুক্ত করার আসন

পদ্মাসন, গোমুখাসন, ত্রিকোণাসন, শবাসন। কোনও বিষয়ে অহেতুক উদ্বিগ্ন হওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।

স্নায়বিক দুর্বলতা মুক্ত করার আসন

সর্বাঙ্গাসন, মৎস্যাসন, শীর্ষাসন, অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন, ত্রিকোণাসন। মানসিক ভয়-ভীতি, কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করতে হবে। এ ব্যাপারে পরিবারের অন্যান্যদের সহানুভূতি ও সহযোগিতা দরকার।

হাত কাঁপা মুক্ত করার আসন

বদ্ধ অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন, উত্থিত পদাসন, গোমুখাসন, বদ্ধ পদ্মাসন, গরুড়াসন, সর্বাঙ্গাসন, মৎস্যাসন, পদহস্তাসন ।

ভেরিকোজ ভেইন্‌স মুক্ত করার আসন

উত্থিত পদাসন, সর্বাঙ্গাসন, মৎস্যাসন, – শীর্ষাসন, বজ্রাসন।

স্বপ্নদোষ, শুক্রক্ষরণ মুক্ত করার আসন

গোমুখাসন, ভদ্রাসন, গরুড়াসন, শীর্ষাসন। সহজপাচ্য খাদ্য গ্রহণ করা উচিৎ । রাত্রে শোয়ার ঠিক আগে গোমুখাসন অভ্যাস বিশেষ উপকারী।

রক্তাল্পতা মুক্ত করার আসন

জানুশিরাসন, অর্ধকুর্মাসন, পদহস্তাসন, অর্ধচন্দ্রাসন, অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন, ত্রিকোণাসন। ‘আয়রণ’ সমৃদ্ধ খাদ্য ও তরিতরকারি অধিক পরিমাণে খেতে হবে।

সার্ভাইক্যাল স্পণ্ডিলাইটিস্ মুক্ত করার আসন

ভুজঙ্গাসন, শলভাসন, উষ্ট্রাসন, অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন, গোমুখাসন। মাথা সামনে ঝুঁকিয়ে কোন ব্যায়াম করবেন না।

অনিদ্রা মুক্ত করার আসন

পদ্মাসন, শীর্ষাসন, অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন, ত্রিকোণাসন। রাত্রে খাওয়ার অন্ততঃ এক/দেড় ঘণ্টা পরে শোয়া উচিৎ। শোবার আগে হাত, মুখ ভাল করে ধুয়ে নিয়ে তারপর বিছানায় বসে বজ্ৰাসন অভ্যাস বিশেষ ফলপ্রদ।

অর্শ মুক্ত করার আসন

ভুজঙ্গাসন, শলভাসন, ভদ্রাসন, গোমুখাসন, উত্থিত পদাসন। কোষ্ঠবদ্ধতা থাকলে দূর করতে হবে।

অনিয়মিত মাসিক বা মাসিক সংক্রান্ত গোলযোগ মুক্ত করার আসন

ভুজঙ্গাসন, শলভাসন, ভদ্রাসন, ধনুরাসন, হলাসন, সর্বাঙ্গাসন, মৎস্যাসন, ত্রিকোণাসন।

মানসিক অবসাদ মুক্ত করার আসন

পদ্মাসন, বজ্রাসন, পশ্চিমোত্তানাসন, ভুজঙ্গাসন, ত্রিকোণাসন, অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন, বৃক্ষাসন, ডীপব্রীদিং। হজম ক্ষমতা ঠিক রাখা দরকার। পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

প্রথম অভ্যাসকারীদের জন্য শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখার উপযোগী যোগাসন বা যোগব্যায়ামের তালিকা

যে সকল ব্যাক্তি প্রথম শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য উপযোগী আসনের অভ্যাস করছেন তাদের জন্য আসনের তিনটি তালিকা দেওয়া হল-

প্রথম মাসে উপযোগী আসনের তালিকা

প্রথম আসন অভ্যাসকারীরা প্রথম মাসে মূলতঃ পবনমুক্তাসন, পদ্মাসন, জানুশিরাসন, ভুজঙ্গাসন, একপদ শলভাসন, ত্রিকোণাসন এই আসনগুলি করবেন।

দ্বিতীয় মাসে উপযোগী আসনের তালিকা

প্রথম আসন অভ্যাসকারীরা দ্বিতীয় মাসে মূলতঃ উত্থিত পদাসন, শশকাসন, উষ্ট্রাসন, অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন, গোমুখাসন, ত্রিকোণাসন।

তৃতীয় মাসে উপযোগী আসনের তালিকা

প্রথম আসন অভ্যাসকারীরা তৃতীয় মাসে মূলতঃ

  • (ক) ১২ বৎসর বা ১৩ বৎসরের উর্দ্ধে- ভদ্রাসন, সর্বাঙ্গাসন, মৎস্যাসন, অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন, ময়ূরাসন, ত্রিকোণাসন ও ডীপত্রীদিং।
  • (খ) ১২ বৎসর বা ১৩-র কম বয়স্কদের জন্য ভদ্রাসন, পশ্চিমোত্তানাসন, চক্রাসন, অর্ধচন্দ্রাসন, পদহস্তাসন, অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন ও ডীপ ব্রীদিং।

তৃতীয় মাসের পর প্রয়োজন অনুযায়ী তালিকা পরিবর্তন করে কিছু কঠিন আসন অভ্যাস করা যেতে পারে। আসনগুলি অভ্যাসের আগে কয়েকটি খালি হাতে ব্যায়াম বা সূর্য-প্রণাম ব্যায়াম করে নিলে আরোও ভালোভাবে উপকারিতা পাওয়া যায়।মনে রাখবেন মাঝে-মধ্যে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের মতামত নেওয়া ভাল।

উচ্চতা বৃদ্ধির উপযোগী যোগাসন বা যোগব্যায়ামের তালিকাসমূহ

সাধারণতঃ ১৭ বৎসর বা ১৮ বৎসর বয়স পর্যন্ত মানবদেহের উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। তারপরে বৃদ্ধির হার কমতে থাকে এবং ২৫ বৎসরের পর উচ্চতা বৃদ্ধি আর হয় না। যাদের বয়স ১৭ বৎসর বা ১৮ বৎসর বা তার নীচে এবং উচ্চতা বয়স অনুযায়ী কম তারা নিচে দেওয়া আসনের কয়েকটি আসন নিয়মিত অভ্যাস করলে আশাকরি লম্বা হতে যথেষ্ট সাহায্য করবে।

শশকাসন, উষ্ট্রাসন, অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন, আকর্ণ ধনুরাসন, হলাসন, সর্বাঙ্গ সিন, মৎস্যাসন, পশ্চিমোত্তানাসন, পদহস্তাসন, ধনুরাসন, ত্রিকোণাসন ইত্যাদি।

অবশ্য যদি কেউ উপরে দেওয়া আসনগুলির সাথে সমস্ত দেহে লম্বালম্বিভাবে টান পড়ে এমন কয়েকটি খালি হাতে ব্যায়াম এবং ‘সূর্য-প্রণাম’ অভ্যাস করলে বিশেষ উপকারী পাওয়া যায়। মাস ছয়েক নিয়মিত অভ্যাসের পর অনেক ক্ষেত্রে কয়েক ইঞ্চি লম্বা হতে দেখা গেছে।

আরোও একটি বিষয় মনে রাখা দরকার যে, উচ্চতা বৃদ্ধিতে হাঁটা, চলা ও বসার ভঙ্গি একটি বিশেষ ভূমিকা নেয়। কুঁজো হয়ে হাঁটা-চলা করার জন্য অনেককে খর্বাকৃতি মনে হয়। সব সময় মেরুদন্ড সোজা রেখে সামনের দিকে সোজা তাকিয়ে (না ঝুঁকে) বেশ টানটানভাবে হাঁটার চেষ্টা করতে হবে। এর ফলে, দৈহিক উচ্চতা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বেশী মনে হবে। নিয়মিত রিং-এ ঝোলা উচ্চতা বৃদ্ধির অপরিহার্য সহায়ক।

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির উপযোগী যোগাসন বা যোগব্যায়ামের তালিকাসমূহ

স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর জন্য প্রথম কথাই হল মনঃসংযোগ। মনোনিবেশের গভীরতা বৃদ্ধির সাথেসাথে মনে রাখার ক্ষমতাও বাড়ে। নিয়মিত শরীর-চর্চা ও কয়েকটি আসন অভ্যাসের মাধ্যমে মনে রাখার ক্ষমতা কিছুটা বাড়ানো যেতে পারে। শান্ত মনে ঘটনা বা বিষয়টির সাথে একাত্ম হতে পারলেই, মনে রাখার কাজটি অনেক সহজ হয়ে যায়। নিয়মিত পদ্মাসন, বজ্রাসন ও ডীপ ব্রীদিং অভ্যাসের ফলে মানসিক একাগ্রতা বৃদ্ধি পায় ও মন শান্ত হয়; স্বাভাবিকভাবেই, মনে রাখার ক্ষমতা বাড়ে। শীর্ষাসন, শশকাসন, পদহস্তাসন, সর্বাঙ্গাসন, মৎস্যাসন অভ্যাসের মাধ্যমে মস্তিকে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ায় মস্তিষ্কস্থিত স্নায়ু ও কোষগুলিতে অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ বৃদ্ধি পায় এবং এগুলি সতেজ ও সক্রিয় হয়ে ওঠে। উপরোক্ত আসনগুলি ও ডীপ ব্রীদিং নিয়মিত অভ্যাসের দ্বারা স্মৃতিশক্তি কিছুটা বাড়ানো সম্ভব।

এ ছাড়াও, অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন, বদ্ধ অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন, ত্রিকোণাসন, পশ্চিমোত্তানাসন, উষ্ট্রাসন, চক্রাসন প্রভৃতি অভ্যাসের মাধ্যমে স্নায়ুতন্ত্রকে আরও সক্রিয় করে তুলতে পারলে দৈহিক সুস্থতা ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সাথেসাথে মনে রাখার ক্ষমতাও বাড়বে।

(FAQ) যোগাসন বা যোগব্যায়াম সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. যোগাসন বা যোগব্যায়াম কাকে বলে?

একটি বিশেষ ভঙ্গিমায় মনঃসংযোগ সহযোগে কিছু সময়ের জন্য স্থিরভাবে সুখকর অবস্থানই হল যোগাসন বা যোগব্যায়াম।

২. যোগাসন বা যোগব্যায়াম করলে কি শরীরের উপকার হয়?

হ্যাঁ, যোগাসন বা যোগব্যায়াম করলে শরীরের শক্তি, ভারসাম্য ও নমনীয়তা উন্নত করে।

৩. যোগাসন বা যোগব্যায়াম কি আপনার শরীরের ওজন কমাতে পারে?

হ্যাঁ, যোগাসন বা যোগব্যায়াম আপনার শরীরের ওজন কমানোর জন্য হাতিয়ার হতে পারে।

৪. কয়েকটি যোগাসন বা যোগব্যায়ামের নাম উল্লেখ করো?

পদ্মাসন, ত্রিকোণাসন, গোমুখাসন ইত্যাদি।

Leave a Comment